দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত করে ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজবাড়ী জেলার নেজারত শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় নিহতরা হলেন—
১। রেহেনা আক্তার (৬১), স্বামী: মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী;
২। মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামী: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মজমপুর, ওয়ার্ড নং-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া;
৩। রাজীব বিশ্বাস (২৮), পিতা: হিমাংশু বিশ্বাস, খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া;
৪। জহুরা আক্তার (২৭), পিতা: মৃত ডা. আবদুল আলীম, সজ্জনকান্দা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা;
৫। কাজী সাইফ (৩০), পিতা: কাজী মুকুল, সজ্জনকান্দা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা;
৬। মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামী: রেজাউল করিম, চর বারকিপাড়া, ইউপি ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী;
৭। ইস্রাফিল (৩), পিতা: দেলোয়ার হোসেন, ধুশুন্দু, ইউপি সমাজপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া;
৮। সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), পিতা: রেজাউল করিম, চর বারকিপাড়া, ইউপি ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী;
৯। ফাইজ শাহানূর (১১), পিতা: বিল্লাল হোসেন, ভবানীপুর, ইউপি বোয়ালিয়া, কালুখালী, রাজবাড়ী;
১০। তাজবিদ (৭), পিতা: কেবিএম মুসাব্বির, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা;
১১। আরমান খান (৩১), পিতা: আরব খান, পশ্চিম খালখোলা, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী (গাড়ির চালক);
১২। নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), স্বামী: আব্দুল আজিজ, বেলগাছি, ইউপি মদেন্দ্রপুর, কালুখালী, রাজবাড়ী;
১৩। লিমা আক্তার (২৬), পিতা: সোবাহান মণ্ডল, রামচন্দ্রপুর, ইউপি মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর;
১৪। জ্যোৎস্না (৩৫), স্বামী: মান্নান মণ্ডল, বড় চর বেনিনগর, ইউপি মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর;
১৫। মুক্তা খানম (৩৮), স্বামী: মৃত জাহাঙ্গীর আলম, পিতা: সিদ্দিকুর রহমান, নোয়াধা, ইউপি আমতলী, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ;
১৬। নাছিমা (৪০), স্বামী: মৃত নূর ইসলাম, মথুয়ারাই, ইউপি পলাশবাড়ী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর;
১৭। আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামী: মো. নুরুজ্জামান, বাগধুনিয়া পালপাড়া, আশুলিয়া, ঢাকা;
১৮। সোহা আক্তার (১১), পিতা: সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী;
১৯। আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), পিতা: গিয়াসউদ্দিন রিপন, সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া;
২০। আরমান (৭ মাস), পিতা: নুরুজ্জামান, খন্দকবাড়িয়া, ইউপি কাচেরকোল, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ;
২১। আব্দুর রহমান (৬), পিতা: আব্দুল আজিজ, মহেন্দ্রপুর, ইউপি রতনদিয়া, কালুখালী, রাজবাড়ী;
২২। সাবিত হাসান (৮), পিতা: শরিফুল ইসলাম, আগমারাই, ইউপি দাদশি, রাজবাড়ী সদর;
২৩। আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), পিতা: ইসমাইল হোসেন খান, ভবানীপুর, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, রাজবাড়ী সদর।
দুর্ঘটনার পর রাতেই পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারকারী যান ‘হামজা’র ক্রেনের সহায়তায় পানির নিচ থেকে তোলা হয়। বাসটি উদ্ধারের পর থেকেই মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে ঘটনার শুরুতেই স্থানীয় লোকজন পদ্মা নদী থেকে দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ধারণা, বাসটি নদীতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই দুই নারী প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসও প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
আরএ